সম্পাদকীয়
ঢিমেতালের গড়িয়ে চলা দুপুর। অর্ধবৃত্তাকার সেই ছাদ। ধীরে ধীরে ইজেলে ফুটে উঠছে মেরুন রঙের আঁকিবুকি। পাশে রাখা সোনার কঙ্কণ আর একটা সোনালী কলম। সেই কলমের কালির আঁচড়ে বেরিয়ে আসা নানা কথা, নানা ভাবনা যাকে আমরা নাম দিয়েছিলাম ‘মেয়েদের কলম’।
তারপর ক্রমে দুপুর পেরিয়ে নরম হয়ে আসা রোদ্দুরে ফের কাজে ডুবে যাওয়া। সময় গড়িয়ে যাওয়াটা খুব নজরে আসেনি। ডুবে থাকতে থাকতেই দমকা হাওয়ায় হঠাৎ মাথা তুলতেই দেখি এক মেঘগম্ভীর আকাশ আমার দিকে তাকিয়ে। পুরো আকাশ জুড়ে মেঘের নানা বালুচরী কারুকাজ। মুগ্ধ চোখে সেইসব মেঘ দেখতে দেখতে চোখ চলে গেলো বয়ে যাওয়া নদীর দিকে। জলের দুলুনীতে একাকী নৌকা অল্প অল্প দুলছে। জলরাশি যেন আদিগন্ত বিস্তৃত। দূর থেকে ধোঁয়ার মত বৃষ্টি ক্রমে কাছে এগিয়ে আসছে। সব কাজ ভুলে দুহাত বাড়িয়ে দিলাম সেই অবারিত বারিধারার কাছে।
বৃষ্টি ধরে গেলে দেখি কোমল মাটি, সতেজ গাছ আর তার পাতার গায়ে লেগে থাকা স্ফটিকস্বচ্ছ জলকণা। জলো হাওয়ার জল থই থই মনের আড়াল সরিয়ে, কাজের ভিড় ঠেলে, শরতের কাশবন পেরিয়ে, বাঙালীর উৎসবের ঢেউ ঠেলে, এবারে আমাদের আসতে সত্যিই দেরী হয়ে গেলো। এই দেরীটুকু পাঠক ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন তো? জানি দেখবেন, সেই বিশ্বাসে ভর করে খোয়াবের তৃতীয় সংখ্যা তুলে দিলাম আপনাদের হাতে যার পাতায় পাতায় ছড়িয়ে আছে পাখিদের বহুবর্ণ ডানার বিচিত্র সব রঙ।